কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যারা ভাব সম্প্রসারণ লেখার নিয়ম এবং কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণটি খুঁজছেন তারা এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ দেখে নিন। আজকের এই আর্টিকেলে সকল শ্রেণীর কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ শেয়ার করব।

সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য এবং চাকরির জন্য এই ভাব সম্প্রসারণটি গুরুত্বপূর্ণ এই ভাব সম্প্রসারণ টি প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে এই আর্টিকেলে দেওয়া রয়েছে নিচে দেখে নিয়ে কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ এবং ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ সকল শ্রেণীর জন্য
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণ টির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে মানুষ পাছে তার সৎ কর্মের মাধ্যমে। এই ভাব সম্প্রসারণ টি আমাদের বাস্তব জীবনকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। মানুষের কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে।
এই পৃথিবী কাউকে ঠাঁই দেয় না। হাজার হাজার ধনী ব্যক্তিরাও একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। এই পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনা তবে চিরস্থায়ী হতে পারে শুধুমাত্র তাদের কর্মগুলো। মানুষ তাদের কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকতে পারে।
আরো পড়ুন: পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৫ম, ৭ম, ৮ম, ৯ম এবং ১০ম
তাই পৃথিবীতে এমন কাজ করে যেতে হবে যার মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করা সম্ভব। মূলত কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ এই দিকেই প্রকাশ করে। নিচে দেখুন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণ দেওয়া হল।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ
মূলভাব: এই পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয় একদিন না একদিন প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের সৎ কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী হয়ে মানুষের মনে গেঁথে রয়েছেন।
সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবীতে মানুষ নশ্বর কিন্তু মানুষের কর্মগুলো এ পৃথিবীতে অবিনশ্বর। তাই সৎকর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিতে হবে। এই পৃথিবীতে মানুষের দেহে ধ্বংস হলেও মানুষের মহৎ কাজের কোন ধ্বংস নেই।যেমন এই পৃথিবীতে হাজারো বিজ্ঞানীরা রয়েছেন যারা আজ পৃথিবীতে নেই কিন্তু তারা তাদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে আজও আমাদের মনে গেঁথে রয়েছেন এবং আমরা আজও তাদেরকে মনে করি।
উদাহরণস্বরূপ অনেক গায়ক রয়েছে তাদের গান আমাদের মনে থাকে কিন্তু তাদের নাম মনে থাকে না। আমরা মানুষের কর্মকে মনে রাখে কিন্তু মানুষকে মনে রাখে না এটি হলো এই পৃথিবীর আসল সত্য। তাই যদি পৃথিবীতে অবিনশ্বর হতে চান এবং পৃথিবীতে সারা জীবন অমর হয়ে থাকতে চান তাহলে মহৎ কর্ম করতে হবে মহৎ কর্ম এর মাধ্যমে এই পৃথিবীতে মানুষের স্মৃতিতে রয়ে যেতে হবে।
শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের জন্য এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। মানে সারা জীবন বিলাসিতা এবং ভোগের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করে দেয় কোন মহৎ কাজ করে না যার ফলে এই পৃথিবীতে তাকে মনে রাখেনা। একজন ব্যক্তির আসল উদ্দেশ্য হতে হবে এই পৃথিবীতে অবিনশ্বর হয়ে থাকা
এবং মানব কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া তাহলেই অমর হয়ে থাকা যাবে। কবি বলেন, ”আপনার কীর্তি চেয়ে আপনি যে মহৎ,”কীর্তিমান ব্যক্তিরা তাদের মহৎ কাজের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে আজও জীবিত রয়েছেন।
মন্তব্য: মানবদেহের ধ্বংস হলেও মানুষের কর্মের কোন ধ্বংস নেই এজন্য যে মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে দিবে সেই হবে এই পৃথিবীতে অমর।
প্রিয় পাঠক এই ভাব সম্প্রসারণ থেকে বোঝা যায় যে এই পৃথিবীতে যদি অমর হয়ে থাকার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমাদের প্রত্যেককে মহৎ কর্ম করতে হবে মানব কল্যাণ নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। এই পৃথিবীতে আসার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা এবং মহৎ কর্ম করা। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র নিজের বিলাসিতা নিজের ভোগ বিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
আমাদের দিকে মনে রাখতে হবে এই পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই আমাদেরকে একদিন প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই পৃথিবীতে মহৎ কর্ম করা মানব কল্যাণ করা নিজেকে উৎসর্গ করা। যেমন বাংলাদেশের আগস্ট মাসে শহীদ আবু সাঈদ নিজেকে উৎসর্গ করেছেন দেশের কারণে।
নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাই আজ তার এত সম্মান তার এই পৃথিবীতে না থাকার পরেও তাকে আমরা প্রত্যেকেই সম্মানের সাথে প্রতিনিয়তই শ্রদ্ধা করি এবং স্মরণ করি। প্রকৃত সুখ বেঁচে থাকার মধ্যে নয় প্রকৃত সুখ হলে মানুষের ভালবাসার মধ্যে আর সে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকে মহৎ কর্ম করতে হবে।
আশা করছি আপনারা সকলেই বুঝতে পেরেছেন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণ সম্পর্কে এবং এই ভাব সম্প্রসারণ এর মূল লক্ষ্য সম্পর্কে এবার চলুন আমরা দেখে নেই কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ ৫ম শ্রেনী।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ ৫ম শ্রেনী
আপনি কি পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী? পঞ্চম শ্রেণীর কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণটি খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন এই আর্টিকেলে আমরা সকল শ্রেণীর জন্য ভাব সম্প্রসারণ সম্পর্কে আলোচনা করব। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটি প্রতিটি ক্লাসের জন্য এবং চাকরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই আমাদের প্রত্যেককে এই ভাব সম্প্রসারণটি পড়তে হব।
মূলভাব: এই পৃথিবীতে মানুষ নশ্বর কিন্তু অবিনশ্বর হলে মানুষের কর্মগুলো মানুষ চাইলে তার সৎকর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অবিনশ্বর হয়ে থাকতে পারে। এই পৃথিবী মানুষকে ঠাই না দিলেও তাদের সৎকর্ম অথবা মহৎ কর্মগুলো ঠিকই ঠাই দেয়।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের দেহের ধ্বংস রয়েছে কিন্তু মানুষের কর্মের কোন ধ্বংস নেই যে সৎকর্ম করবে সে পৃথিবীতে প্রত্যেকের মনে ভালো স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকবে আর যে অসৎ কর্ম করবে তাকে সারা জীবন এই পৃথিবীর মানুষ ঘৃণা করবে। তাই মহৎ কমের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকতে হবে। এই পৃথিবীতে যারা মহৎ কর্ম করে গেছেন তাদেরকে এই পৃথিবী মানুষ চির জীবন হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখে। যেমন ভাষা আন্দোলনের শহী দ শফিক রফিক সালাম বরকত তারা তাদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীর বুকে আজও স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে রয়েছেন।
মন্তব্য: পৃথিবীতে শুধুমাত্র শারীরিক মৃত্যু ঘটে কিন্তু মানুষের কর্মের কোন মৃত্যু ঘটে না।। এই পৃথিবীর মানুষ মানুষকে মনে না রাখলে তাদের কর্মগুলোকে মনে রাখে তাই বলা যায় যে কীর্তিমানের কোন মৃত্যু নেই।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ এর মূলভাব সম্পর্কে এই ভাব সম্প্রসারণটি এটিই বোঝায় যে কীর্তিমানের কোন মৃত্যু হয় না অর্থাৎ যারা পৃথিবীতে ভালো মহৎ কর্ম করেছেন তাদের কোন মৃত্যু ঘটেন তাদের শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও তাদের কর্মে কোন মৃত্যু ঘটনা সারাজীবন এই পৃথিবী তাদেরকে স্মরণীয়-ও বরণীয় করে রাখে।
আর যারা এই পৃথিবীতে খারাপ কাজ করে গেছে তাদেরকে এই পৃথিবীর মানুষ সারা জীবন শুধুমাত্র ঘৃণার চোখেই দেখেন। তাই শিক্ষার্থীবৃন্দ আমরা শিখলাম যে এই পৃথিবীতে যে ভালো কাজ করবে তাকে প্রত্যেকেই স্মরণ করবে। তাই শুধুমাত্র বিলাসবহুল জীবনযাপনে সারা জীবন কাটিয়ে দিলে চলবে না বরং এই পৃথিবীতে এমন কিছু কর্ম করতে হবে যার মাধ্যমে সারা জীবন এই পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকা যাবে।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ ষষ্ঠ শ্রেণি
আপনি কি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ?? একটি মানে মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ কি করছেন ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য কীর্তিমানের মৃত্যু নাই এই ভাব সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ বারবার এ ভাব সম্প্রসারণ পরীক্ষাতে আসে তাই যারা পঞ্চম ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা রয়েছেন তারা এই ভাব সম্প্রসারণটি খুব গুরুত্বসহ দেখে নিন। নিচে দেখুন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব সম্প্রসারণ ২০০ শব্দের মধ্যে দেওয়া হল।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ
মূলভাব: মানুষের জীবনের সময় খুব সীমিত হলেও মানুষের মহৎ কর্ম গুলো এ পৃথিবীতে অবিনশ্বর হয়ে থাকে অর্থাৎ অমর হয়ে থাকে। মানুষ বাঁচে তার বয়সের মধ্যে নয় মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে যে পৃথিবীতে মহৎ কর্ম করে যাবে তাকে সারা জীবন এই পৃথিবী মনে করে রাখবে।
মূলভাব: পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে আমাদের প্রত্যেককে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে আরবিতে রয়েছে কুল্লু নাফ – সি – যাকা তুল ** মউত। এই সুরাটির বাংলা অর্থ হচ্ছে প্রত্যেক জীবকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে অর্থাৎ আমাদের মৃত্যু অনিবার্য সেক্ষেত্রে আমরা কেউ জানিনা কখন আমাদের মৃত্যু ঘটবে। এই পৃথিবীতে কেউ চিরকাল বেঁচে থাকবে না।
কিন্তু চিরকাল বেঁচে থাকবে শুধুমাত্র মানুষের মহৎ কর্মগুলো মানুষের গুণাগুণ গুলো আমরা প্রত্যেকেই মানুষ গুনাগুন গুলোকে মনে রাখে কিন্তু মানুষকে কেউ মনে রাখে না। যেমন পাখি যখন গান গাই তখন আমরা প্রত্যেকেই তার গানকে উপভোগ করি কিন্তু তাকে কেউ আর মনে রাখি না। এটি হলো পৃথিবীর আসল চিরন্তন সত্য যে এই পৃথিবী শুধুমাত্র মানুষের কর্মকে মানুষের গুনাগুন গুলোকে মনে রাখে কিন্তু কেউ সেই মানুষটিকে মনে রাখে না।
এই পৃথিবীতে যত বিজ্ঞানীরা ছিলেন তারা আজ তাদের মহৎ কর্মের জন্য এই পৃথিবীতে অমর হয়ে রয়েছেন আমরা প্রত্যেকেই অ্যারিস্টোটল বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর নাম শুনেছি তাদেরকে চিনি। এর কারণ হলো তারা জীবিত কালে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং এ পৃথিবীতে প্রচুর মহৎ কর্ম করেছিলেন। তাদের সেই মহৎ কর্মের কারণেই আজও তাদেরকে আমরা স্মরণ করি।
উপসংহার: এই পৃথিবীর বুকে মানুষের কোন ঠাই না হলেও মানুষের কর্মের ঠিকই ঠাই হয়। তাই পৃথিবীতে এমন মহৎ কাজ করতে হবে যার মাধ্যমে এই পৃথিবীতে চিরকাল অমর হয়ে থাকা যায়। যে ব্যাক্তি মানব কল্যাণ নিজেকে উৎসর্গ করেন তার স্মৃতি এই পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে মানুষের হৃদয়।
প্রিয় শিক্ষার্থী আশা করছি আপনারা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছেন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণটি সম্পর্কে এবার চলুন আমরা দেখে নেই কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ শ্রেনী ৭ম ও ৮ম
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ শ্রেনী ৭ম ও ৮ম
আপনি কি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বারবার পরীক্ষাতে এই ভাব সম্প্রসারণটি আসে। এছাড়াও যারা চাকরির প্রিপারেশন নিচ্ছেন চাকরি ক্ষেত্রেও এ ভাব সম্প্রসারণ আসে। তাই এই ভাবটা প্রচলনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের প্রত্যেককে এ ভাব সম্প্রসারণটি করতে হবে চলুন আমরা দেখে নেই কীর্তিমানের মৃত্যু নিয়ে ভাব সম্প্রসারণ শ্রেনী ৭ম ও ৮ম
মূলভাব: এই পৃথিবী কোন মানুষকে ঠাই দেয় না এই পৃথিবীর বুকে ঠাঁই পেতে হলে মহৎ কর্ম করতে হবে। মানুষ নশ্বর হলেও এই পৃথিবীর বুকে মানুষের কর্মগুলো অবিনশ্বর। অর্থাৎ এই পৃথিবীতে মানুষের কর্মগুলো সারা জীবন বেঁচে থাকে। তাই কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।
সম্প্রসারিত ভাব: এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র মানুষের দেহের মৃত্যু ঘটে কিন্তু মানুষের কর্মের কোন মৃত্যু ঘটে না এই পৃথিবীতে আমাদের প্রত্যেকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ ঠিকই গ্রহণ করতে হবে কিন্তু যদি মহৎ কর্ম করা হয় তাহলে এই পৃথিবীর মানুষ চিরজীবন মনে রাখবে। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন মহৎ কবি ছিলেন। সে আমাদের মত একজন সাধারণ ব্যক্তি কিন্তু সে তার মহৎ কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে চিরকাল তার জায়গা করে নিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সারাজীবন অর্থ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন এর পেছনে ছুটে চলেছি কিন্তু আমরা আসলে ভুলে গেছি যে আমাদের মূল গন্তব্য কি।
আমাদের প্রত্যেকের মূল গন্তব্য হলো কবর অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকের একদিন সেই মৃত্যুবরণ গ্রহণ করতেই হবে কিন্তু যদি আপনি এ পৃথিবীতে অবিনশ্বর হয়ে থাকতে চান আপনি যদি চান আপনাকে সারাজীবন এই পৃথিবীর মানুষ মনে রাখুক তাহলে আপনাকে মহৎ কাজ করতে হবে মহৎ কাজের মাধ্যমে নিজেকে অবিনশ্বর করে রাখতে হবে। কীর্তিমান ব্যক্তির কখনোই মৃত্যু হয় না।
উপসংহার: এই বিশ্বে বহু কীর্তিমান ব্যক্তি রয়েছেন যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি নজরুল , বিজ্ঞানী আইনস্টাইন অ্যারিস্টোটল এরা তাদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে আজও এই পৃথিবীতে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে রয়েছেন এবং আগামী চিরকাল তারা এভাবেই এই পৃথিবীর বুকে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অতএব এটি নিশ্চিত বলা যায় যে কীর্তিমান ব্যক্তির কখনোই মৃত্যু ঘটে না।
প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছেন কীর্তিমান ব্যক্তিদের কেন মৃত্যু ঘটে না তাদের মৃত্যুর ঘটে শুধুমাত্র শরীরে কিন্তু তাদের কর্মের মৃত্যু ঘটেনা সারা জীবন তাদেরকে এই পৃথিবীবাসী মনে করে রাখে। তাই এ পৃথিবীতে এমন মহৎ কর্ম করতে হবে যার মাধ্যমে সারা জীবন এই পৃথিবীতে নিজের ঠাঁই হয়। এবার চলুন আমরা দেখে নেই ভাব সম্প্রসারণ: কীর্তিমানের মৃত্যু নেই SSC ও HSC।
ভাব সম্প্রসারণ: কীর্তিমানের মৃত্যু নেই SSC ও HSC
আপনি কি এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থী? এইচএসসি ও এসেছে শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাব সম্প্রসারণ টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের প্রত্যেকে এ ভাব সম্প্রসারণটি পড়তে হবে। এমনকি চাকরি ক্ষেত্রেও এই ভাব সম্প্রসারণটির প্রয়োজন হয়। যারা অনার্স লেভেলে পড়াশোনা করছেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে তাদের জন্য এই ভাব সম্প্রসারণটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই ভাব সম্প্রসারণ আমাদেরকে শিখায় যে আসলে এই পৃথিবীতে আমাদের প্রত্যেককেই একদিন মৃত্যুবরণ গ্রহণ করতে হবে কিন্তু আমরা চাইলে আমাদের নিজেদেরকে এই পৃথিবীর বুকে সারা জীবন অমর করে রাখতে পারি শুধুমাত্র মহৎ কর্মের মাধ্যমে। সে বিষয়টিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছে এ ভাব সম্প্রসারণটি। নিচে দেখে নিন এসএসসি এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণটি দেওয়া হলো।
মূলভাব: এই পৃথিবীতে মানব জীবন ক্ষরস্থায়ী হলেও মানুষ বাঁচে তার কর্মের মাধ্যমে। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে এই পৃথিবীর বুকে চিরস্থায়ী হয়ে থাকতে পারে। এই পৃথিবীর বুকে কোন মানুষের ঠাঁই না হলেও মানুষের কর্মের ঠাঁই হয়। এই ঠাই পাওয়ার জন্য মানুষকে কঠোর পরিশ্রম এবং আত্ম নিবেদন করতে হবে।
সম্প্রসারিত ভাব: এই পৃথিবীতে প্রতিটি জীবের একদিন মৃত্যু ঘটবে অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেককে একদিন মৃত্যুবরণ গ্রহণ করতে হবে পৃথিবীতে আসা মানে একদিন বিদায় নিতে হবে এই বিদায়ের পর আমাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে। কিন্তু যে মহৎ কাজ করবে যে এই পৃথিবীর বুকে নিজেকে মানব কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করবে তাকে চিরকাল এই পৃথিবীর মনে রাখবে। তাই শুধু মাত্র বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অর্থই আমাদের মূল সফলতা নয়।
আমাদের মূল সফলতা হলো এই পৃথিবীর বুকে নিজেকে অমর করে রাখা। সময়ের সাথে প্রত্যেককে একদিন বিলীন হতে হবে। সময়ের সাথে আমাদের প্রত্যেকের একদিন দৈহিক মৃত্যু ঘটবে কিন্তু মৃত্যু হবে না শুধুমাত্র স্মৃতির মানুষের কর্মের। মানুষের স্মৃতি ও সফলতা এই পৃথিবীর বুকে মানুষকে অমর করে রাখেন। কিন্তু যে এই স্মৃতিগুলো সফলতা গুলো তৈরি করেছে তাকে কেউ মনে রাখেনা শুধুমাত্র তার স্মৃতিকে মানুষ মনে রাখে যেমন এই পৃথিবীতে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার কে মানুষ মনে করেন স্মৃতিতে গেঁথে রাখেন কিন্তু যে বিজ্ঞানী এই আবিষ্কার করেছে সে বিজ্ঞানী কে আর কেউ মনে রাখেনা।
এটি হলো পৃথিবীর চিরন্তন সত্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদের স্মরণ করতে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা প্রত্যেকে ফুল দিয়ে তাদের বরণ করি কিন্তু কে কে শহীদ হয়েছে সে বিষয়টি আর কেউ মনে করি না শুধুমাত্র তাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা তাদেরকে স্মরণ করি। অতএব যদি আপনি এই পৃথিবীতে চিরকাল স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে মানুষের অন্তরে অমর হয়ে থাকতে চান তাহলে আপনাকে মহৎ কর্ম করতে হবে।
মন্তব্য: এই পৃথিবীতে দেহের নশ্বর ঘটলে মানুষের কর্মের কোন নশ্বর ঘটনা মহৎ কর্ম ও কল্যাণমূলক কর্মের মাধ্যমে নিজেকে অবিনশ্বর করে রাখা যায়। এই পৃথিবীর বুকে অবিনশ্বর ও চিরস্মরণীয় ও বরণীয় থাকার একমাত্র পন্থা হচ্ছে মহৎ কর্ম। মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ সারাজীবন এই পৃথিবীতে মানুষের মনে ওমর হয়ে থাকে।
প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা সকলেই বুঝতে পেরেছেন ভাব সম্প্রসারণ সম্পর্কে। যারা এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের জন্য এ ভাবসম্প্রসারণটি দেওয়া হলো। এই ভাব সম্প্রসারণটি 300 শব্দের। এই ভাব সম্প্রসারণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বারবার পরীক্ষাতে আসে তাই তারা ও এইচএসসি শিক্ষার্থী রয়েছেন তারা খাতায় ভাব সম্প্রসারণ টি নোট করে রাখুন। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক ভাব সম্প্রসারণ লেখার নিয়ম।
ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম
আপনি কি ভাব সম্প্রসারণ লেখার সঠিক নিয়ম খুঁজছেন? কোন নিয়মে ভাব সম্প্রসারণ লিখলে পরীক্ষাতে ফুল মার্ক পাওয়া যাবে? পরীক্ষা দিয়ে একটি ভাব সম্প্রসারণ লিখলে মোট ১০ মার্ক পাওয়া যায় যদি ভাব সম্প্রসারণটিকে ফুল মার্ক পেতে চান তাহলে ভাব সম্প্রসারণ টি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করতে হবে। যেমন প্রথমে মূলভাব লিখতে হবে এই মূল ভাবের ভাব সম্প্রসারণটির মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে হবে।
যেমন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মহৎ কাজের প্রতি আরো আগ্রহী করে তোলা। তারপর সম্প্রসারিত ভাব উল্লেখ করতে হবে। এই সম্প্রসারিত ভাবছি সবচেয়ে বড় লিখতে হবে যেমন আপনি যদি 200 শব্দের মধ্যে একটি ভাব সম্প্রসারণ লিখেন তাহলে ১৫০ শব্দের সম্প্রসারিত ভাব লিখতে হবে আর ৫০ মার্কের মূলভাব ও মন্তব্য লিখতে হবে।
ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম
- ভাব সম্প্রসারণ লেখার পূর্বেই সে ভাব সম্প্রসারণ এর মূল বিষয় লিখতে হবে।যেমন কৃতি মানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ এর মূল বিষয় হল এই পৃথিবীতে মানুষ চিরস্থায়ী নয় কিন্তু মানুষের কর্মগুলো চিরস্থায়ী যদি মানুষ মহৎ কর্ম করে তাহলে সে এই পৃথিবীতে অবিনশ্বর হয়ে থাকতে পারবে।
- তারপর সম্প্রসারিত ভাব উল্লেখ করতে হবে সম্প্রসারিত ভাবকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে। অর্থাৎ তিনবার প্যারা প্যারা আকারে সম্প্রসারিত ভাব লিখতে হবে। সম্প্রসারিত ভাব মাঝখানে লিখতে হবে এবং এই অংশটি সবচেয়ে বড় করতে হবে। এখানে সেইভাবে সম্প্রসারণ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা যুক্ত করতে হবে।
- সর্বশেষ উপসংহার অথবা মন্তব্য লিখতে হবে। উপসংহার অতিরিক্ত বড় করা যাবেনা সর্বোচ্চ তিন থেকে চার লাইনের মধ্যেই সমাপ্ত করতে হবে।
শুধুমাত্র এই তিনটি নিয়ম মেনে একটি ভাব সম্প্রসারণ লিখতে হবে তাহলে পরীক্ষাতে আপনারা ফুল মার্ক পাবেন। অনেকে জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে ভাব-সম্প্রসারণ লিখলে শিক্ষকরা ফুল মার্কে দিবে? যদি আপনারা এভাবে ভাব সম্প্রসারণ লিখেন তাহলে আশা করছি আপনারা পরীক্ষাতে ফুল ম্যাপ পাবেন তবে ভাব সম্প্রসারণটি কোন বিষয়ে সে বিষয়টি প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে।
আমাদের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হলো কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ সকল শ্রেণির জন্য এবং ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম। যারা কীর্তিমানের মৃত্যু নেই এই ভাব সম্প্রসারণ টি খুঁজছিলেন তারা এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন দেখে নিন এই আর্টিকেলে আমরা সকল শ্রেণীর জন্য ভাবসম্প্রসারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এ ভাব সম্প্রসারণটি খুবই সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ।
বারবার পরীক্ষাতে আসে তাই দ্রুত ভাব সম্প্রসারণ স্ক্রিনশট নিয়ে নিন অথবা খাতাই নোট করে রাখুন। এটি আপনাদের সকল শ্রেণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি চাকরির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা প্রত্যেকেই বুঝতে পেরেছেন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাব-সম্প্রসারণ সম্পর্কে। আর কোন বিষয়ে আপনাদের ভাব সম্প্রসারণ প্রয়োজন কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।